অভিনব উদ্যোগ! স্থানীয়ের বাড়িতে লকারের ব্যবস্থা করে নজির গড়লো রামপুরহাট থানার পুলিশ

অভিনব উদ্যোগ! স্থানীয়ের বাড়িতে লকারের ব্যবস্থা করে নজির গড়লো রামপুরহাট থানার পুলিশ

প্রীতম দাস রামপুরহাট :-

রামপুরহাট থানার পুলিশের তরফ থেকে রামপুরহাট পৌরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি whatsapp গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। যে গ্রুপে প্রতিনিয়ত এলাকার কোন কোন বাসিন্দা বাড়ি ছেড়ে বাইরে যাচ্ছেন তার তথ্য দেওয়া হচ্ছে। রামপুরহাট থানার তরফ থেকে রামপুরহাট শহরকে পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম তিন ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল আগেই।

পুলিশের তরফ থেকে কোন ব্যক্তির বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ফাঁকা রেখে বাইরে যাওয়ার খবর পেলেই সেই এলাকায় সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পাঠানো হচ্ছে তদারকির জন্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বাসিন্দাদের এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য আলাদা করে চারটি মোটরবাইক এবং আটজন পুলিশ কর্মী দেওয়া হয়েছে থানার তরফ থেকে। এছাড়াও ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে, যারাও গৃহস্থদের ফাঁকা থাকা বাড়ি দেখভালের কাজ করছেন।

এবার সেই অভিনব উদ্যোগকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলো রামপুরহাট থানার আইসি দেবাশিস চক্রবর্তী। সহযোগীতায় ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অষ্টম মন্ডল। এনাদের উদ্যোগে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা বয়স ৭২ এর নবনী কান্ত মন্ডল এর বাড়িতে লকারের ব্যবস্তা করে দেওয়া হয়। যাতে তাঁর না থাকা অবস্থায় তাঁর সোনা দানা, টাকাপয়সা সব সুরক্ষিত থাকে। নবনী কান্ত বাবু জানান, ” আমার বয়স হয়েছে। আমি আর আমার স্ত্রী বাড়িতে একাই থাকি। এতদিন আমাদের নিজস্ব অর্থ ও সম্পত্তির কোনোরকম লকার বা সুরক্ষিত ব্যাবস্থা ছিল। গতকাল রাতে কাউন্সিলর এবং রামপুরহাট থানার আইসি আমার বাড়িতে এসে সুন্দর ব্যাবহার করে আমাকে নিয়ে যায় এবং সাথে সাথে লকারের ব্যাবস্থা করে দেয়।এতদিন পর্যন্ত আমার ঘরে কোনোরকম লকারের ব্যাবস্থা ছিল না। কিন্তু রামপুরহাট থানার পুলিশ আমার পাশে দাঁড়িয়ে যেভাবে আমাকে লকার বানিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করলো তাতে করে আমি কৃতজ্ঞ। সত্যিই আমি অভিভূত। থানার আইসি এবং কাউন্সিলারের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই। ” পুলিশের এই উদ্যোগে খুশি নবনী কান্ত বাবুর পরিবার সহ স্থানীয়রা। তারাও সাধুবাদ জানিয়েছেন রামপুর হাট থানার উদ্যোগে নেওয়া ব্যাবস্থাকে। স্থানীয়রাও চান এই ব্যাবস্থা যেনো আগামী দিনেও সফল ভাবে এগিয়ে যাক। এতে সাধারণ মানুষ খুবই উপকৃত হবেন।

পাশপাশি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ফাঁকা বাড়িতে যেভাবে দিন দিন চুরির প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে সেই প্রবণতা ঠেকানোর জন্যই এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যদি কোন ব্যক্তি বাড়ি ছেড়ে বাইরে কোথাও যান এবং তার বাড়ি সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে তাকে স্থানীয় কাউন্সিলর অথবা রামপুরহাট থানার পুলিশকে জানিয়ে যেতে হবে তারা বাইরে যাচ্ছেন। এর ফলে পুলিশের আরও সুবিধা হবে এই কাজের ক্ষেত্রে। এমনিতেও যারা পুলিশ শহরের প্রতিটি বাড়ির সুরক্ষার দিকে নজরদারি চালাচ্ছে, তবে পুলিশের অনুরোধ তাদের তথ্য প্রদান করে গেলে কাজের ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে।

আরো পড়ুন