উপপ্রধান খুনের পর উত্তপ্ত রামপুরহাটের বগটুই, আগুনে পুড়ে মৃত কমকরে ৭

উপপ্রধান খুনের পর উত্তপ্ত রামপুরহাটের বগটুই, আগুনে পুড়ে মৃত কমকরে ৭

নিজস্ব প্রতিবেদন : গতকাল রাতে বীরভূমের রামপুরহাট থানার অন্তর্গত বরশাল গ্রামের তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখ খুন হন। রাত্রি সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি নিজের গ্রাম বগটুইয়ে ১৪ নং জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন। সেই সময় কয়েক জন দুষ্কৃতী এসে তাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে এবং সেই বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

তবে এই ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বগটুই গ্রাম। রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন এবং সেই আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় অন্ততপক্ষে ৭ জনের। উপপ্রধান খুনের ঘটনার পরেই এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা অশান্তির গন্ধ মিলতে শুরু করেছে। সকাল এবং রাতে দমকল বাহিনীর কর্মীরা মোট ১০ জনের মৃতদেহ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছেন বলে জানিয়েছেন।

দমকল বাহিনীর কর্মীদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, “সারারাত ধরে কাজ চলেছে। সকালেও কাজ চলছে। ১০-১২টি বাড়িতে আগুন লাগানো অবস্থায় আমরা দেখতে পাই এবং সেগুলি নেভানোর কাজ শুরু করি। কাল রাতে তিনটি এবং আজ সকালে সাতটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। বাকি আর কিছু বলতে পারব না কারণ আমাদের রোটেশন ভিত্তিক ডিউটি থাকে। তবে যাদের উদ্ধার করা হয় প্রত্যেকের মারা গিয়েছেন।”

ঘটনার পর এলাকায় ছুটে যান বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র ত্রিপাঠী। তিনি সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে সম্পূর্ণ ঘটনার জন্য হলেও জানিয়েছেন তিনি।

নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী জানিয়েছেন, “মোট সাতজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তারা এখন ঠিক আছেন। এই ঘটনার তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল ডাকা হয়েছে। তারা এসে তদন্ত করবেন।”

তবে এই ঘটনাটি উপপ্রধান খুনের জেরেই ঘটেছে তা নিয়ে উঠছে নানান প্রশ্ন। কারণ এই ঘটনা ঘটে ঠিক উপপ্রধান ভাদু সেখ খুন হওয়ার পরেই। যদিও পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে তদন্তের পরেই এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানানো হবে। অন্যদিকে খুনের এই ঘটনা এবং উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এখনো পর্যন্ত একজন গ্রেপ্তার হয়েছে বলেও খবর।

আরো পড়ুন