কখনো IAS, কখনো পুরকর্তা, ধুরন্ধর দেবাঞ্জনের ১০ কুকীর্তি

কখনো IAS, কখনো পুরকর্তা, ধুরন্ধর দেবাঞ্জনের ১০ কুকীর্তি

নিজস্ব প্রতিবেদন : ভুয়ো ভ্যাকসিন কাণ্ডে ধরা পড়ার পর দেবাঞ্জনের একাধিক কুকীর্তি সামনে আসছে। তিনি সুযোগ বুঝে কখনো নিজেকে আইএএস অফিসার, কখনো আবার পুরকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আর এই ভাবেই দিনের পর দিন চালিয়ে গেছেন নিজের জালিয়াতি। জালিয়াতির দিক দিয়ে তিনি এতটাই নিচে নেমেছেন যে নিজের বাবা এবং শিক্ষককেও তিনি ছাড়েননি। সম্প্রতি তাঁর ধরা পড়ার পর এমনই ১০ কুকীর্তির কথা সামনে এসেছে।

১) জলের সঙ্গে পাউডার গুঁড়ো মিশিয়ে টিকা তৈরি করে সেই টিকা সাধারণ মানুষকে দিয়েছেন দেবাঞ্জন। তিনি এতটাই ধুরন্ধর যে এই টিকা তিনি দিয়েছেন খোদ সাংসদ অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকেও। আর অধিকাংশ মানুষকে এই ভুয়ো টিকা দেওয়া হয়েছিল কোভিশিল্ড বলে।

২) ভুয়ো ভ্যাকসিনের পাশাপাশি তিনি ভুয়ো স্যানিটাইজারও বিলি করেছেন। তার অফিস থেকে সেই নমুনা উদ্ধার হয়েছে। যাতে ইথাইল অ্যালকোহলের পরিবর্তে রয়েছে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড। সাধারণত তারা ঘরবাড়ি পরিষ্কারের কাজে লাগানো হয়।

৩) দেবাঞ্জন তার এই জাল ছড়িয়ে ছিলেন মূলত কলকাতা পৌরসভার যুগ্ম কমিশনারের পরিচয় দিয়ে। তিনি কমিশনারের সই জাল করে তৈরি করেছিলেন নকল আইডি কার্ড। এমনকি পুরসভার নাম করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা চালাতেন কসবায়। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে সমস্ত কিছুই জাল করে তৈরি করেছিলেন। পুরসভার নথি রাবার স্ট্যাম্প এমনকি অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করতেন কলকাতা পুরসভার জিএসটি নম্বর। পুরসভার নাম করে দুয়ারে সরকার কর্মসূচির আয়োজনও করেছেন তিনি। এছাড়াও পুরসভার নাম করে সোনারপুর এবং উত্তর কলকাতায় ত্রাণ বিলি করেছেন।

৪) নিজের বাবা কেউ তিনি ভুয়ো ভ্যাকসিন দিয়েছেন। মাকেও এই ভুয়ো ভ্যাকসিন দেওয়ার তার টার্গেট ছিল। যদিও তার মা ওই ক্যাম্পে যাননি। অন্যদিকে বাবাকে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার কারণ হলো অন্যান্য মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা।

৫) দেবাঞ্জন দেবের এই কর্মকাণ্ড মূলত তৈরি হয়েছিল কলকাতা পুরসভাকে কেন্দ্র করেই। সেখানেই তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের ভুয়ো ইমেল আইডি। একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন মিথ্যা পরিচয় দিয়ে। তিনি কসবায় যে অফিস তৈরি করেছিলেন সেখান থেকে কলকাতা পৌরসভার রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতেন। মাসিক ২৩ হাজার টাকার চুক্তিতে নিয়োগ করেছিলেন পুরসভার হেডক্লার্ক। এমনকি পুরসভার নাম ভাঙ্গিয়ে মাইক্রোফিনান্স সংস্থাকে ১৭১টি ভুয়ো টিকা বিক্রি করেছিলেন।

৬) করোনা টিকা কোভিশিল্ডের নকল স্টিকার তিনি তৈরি করেছিলেন। নকল স্টিকার তৈরি করার গ্রাফিক্স পাওয়া গিয়েছে তার কম্পিউটারে। ভারতে এখন অনুমোদন পায়নি ফাইজারের টিকাও উদ্ধার হয়েছে তার অফিস থেকে।

৭) ট্যাংরার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯০ লক্ষ টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে দেবাঞ্জন দেবের বিরুদ্ধে। এছাড়াও যে সংস্থাকে তিনি ভুয়ো করোনা টিকা দিয়েছিলেন তাদের থেকে তিনি আদায় করেছেন ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। পাশাপাশি একটি ফার্মা কোম্পানিকে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার জন্য চার লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন তিনি।

৮) পড়াশোনা করার সময় তিনি তার এক গৃহশিক্ষককেও প্রতারিত করেছিলেন। ওই গৃহশিক্ষকের অভিনয় করার সখ ছিল। সেই সখকে কাজে লাগিয়ে দেবাঞ্জন দেব ওই গৃহশিক্ষককে একটি শর্ট ফিল্মে অভিনয় করার সুযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন।

৯) আশ্চর্যের বিষয় দেবাঞ্জন দেবের কসবার অফিসের কর্মচারীরা মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেতন পেতেন। কিন্তু সেই বেতন কাটা যেত ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিনকর্প থেকে। অথচ এটি একটি সরকারি সংস্থা।

১০) ২০টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে দেবাঞ্জন দেব স্মার্ট ক্লাস করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। আর এই পরিকল্পনার সাথে সাথে রয়েছে ১০ লক্ষ টাকার বেশি প্রতারণার অভিযোগ।

আরো পড়ুন