কন্যাসন্তান বাড়িতে আসতেই আনন্দে আত্মহারা, লক্ষ্মী রূপে বরণ বীরভূমে

কন্যাসন্তান বাড়িতে আসতেই আনন্দে আত্মহারা, লক্ষ্মী রূপে বরণ বীরভূমে

নিজস্ব প্রতিবেদন : কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করা মানেই অনেকের কাছে তা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এমনটা আমরা মন গড়ে বলছি এমনটা নয়। সাম্প্রতিককালের বিভিন্ন ঘটনা এর উদাহরণ হিসেবে ধরে নেওয়া যেতে পারে। যেমন বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্য করা যায় কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করার পর তাদের জঞ্জালে ফেলে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনার ব্যতিক্রম দেখা গেল বীরভূমে।

বীরভূমের এক পরিবারে নতুন সদস্য হিসাবে কন্যা সন্তান আসতেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তারা। আর সেই কন্যাসন্তানের বাড়িতে প্রথম প্রবেশকে তারা আলাদাভাবে সেলিব্রেশন করলেন। লক্ষ্মী রূপে তাদের কন্যা সন্তানকে গড়ে তোলেন তারা। তাদের এই সেলিব্রেশন শুধু আনন্দের জন্য নয়, এর পাশাপাশি তারা সমাজের একটি বার্তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এমনটা করেছেন।

কন্যা সন্তানকে বরণ করে নেওয়ার জন্য এমন অভিনবত্ব দেখিয়েছেন বীরভূমের সিউড়ি থানার অন্তর্গত কড়িধ্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের কালিপুর গ্রামের এক বড় পরিবার। এই ধীবর পরিবারের মন্টু ধীবর এবং শ্যামলী ধীবরের কোলে সদ্য এসেছে তাদের কন্যা সন্তান আঁখি ধীবর। এই আঁখিকে বরণ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিনবত্ব দেখান তারা।

আঁখি জন্মগ্রহণ করার পর মেয়ের সেবা-শুশ্রূষার জন্য শ্যামলী ধীবর বাপের বাড়ি যান। এর পর তারা গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার কালীপুরের বাড়িতে প্রত্যাবর্তন করেন। প্রত্যাবর্তনের সময় বাড়ির প্রবেশদ্বার ফুল দিয়ে সাজানো হয়, লেখা হয় ওয়েলকাম, এর পাশাপাশি ঘটে দিয়ে সাজানো হয় এবং মেয়ের পায়ের ছাপ আলতা দিয়ে কাগজে তুলে রাখা হয়। এছাড়াও সেলিব্রেশনের জন্য ছিল পার্টি পপার।

এমন আয়োজনের জন্য মন্টু ধীবর জানিয়েছেন, “অনেক ক্ষেত্রেই আমরা লক্ষ্য করে থাকি কন্যা সন্তানদের নানানভাবে অবহেলা করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারাও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। পুত্র সন্তানের মতোই কন্যা সন্তানদের লালন পালন করে মানুষ করা উচিত। এই বার্তা দেওয়ার জন্যই আমার মেয়ের বাড়িতে প্রথম আসার দিন এমন আয়োজন করেছিলাম।”

আরো পড়ুন