কাঁচা বাদাম গানের স্রষ্টা এবার রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে, পেলেন সম্মান

কাঁচা বাদাম গানের স্রষ্টা এবার রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে, পেলেন সম্মান

নিজস্ব প্রতিবেদন : বীরভূমের দুবরাজপুর ব্লকের অন্তর্গত লক্ষীনারায়নপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুড়ালজুড়ি গ্রামের ভুবন বাদ্যকরের কাঁচা বাদাম গানের এখন আর তুলনা হয়না। এই গান এখন রাজ্যের গণ্ডি পার করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে যাওয়ার পাশাপাশি পৌঁছে গিয়েছে বিদেশেও। এখন এই গানে রিল ভিডিও বানাচ্ছেন বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, উত্তর কোরিয়া, তানজানিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ সহ বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় তারকারা।

বাদাম বিক্রেতা ভুবন বাদ্যকরের এই কাঁচা বাদাম গান ভাইরাল হওয়ার পর তাকে বিভিন্ন জায়গায় সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। সম্প্রতি বীরভূম জেলা পুলিশের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং সেখানে তাঁকে এই গান গাইতে অনুরোধ করা হয়। বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করার পাশাপাশি বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী তার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন। এরইমধ্যে এবার কাচা বাদাম গানের স্রষ্টা ভবন বাদ্যকর পৌঁছে গেলেন রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে।

বৃহস্পতিবার ভবানী ভবনে যান ভুবন বাদ্যকর। বীরভূম পুলিশের ডিএসপি পদমর্যাদার এক পুলিশ অফিসার তাকে রাজ্য পুলিশের সদর দপ্তরে নিয়ে আসেন। সেখানে কাচা বাদাম গানের স্রষ্টা ভুবন বাদ্যকর দেখা করেন রাজ্য পুলিসের ডিজি মনোজ মালব্য এবং এডিজি সিআইডি জ্ঞানবন্ত সিংয়ের সঙ্গে। সেখানে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ভুবন বাদ্যকরকে সম্মাননা প্রদান করেন।

বীরভূমের নিম্নবিত্ত পরিবারের এই শিল্পীকে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা পুষ্পস্তবক এবং শাল দিয়ে সম্মান প্রদান করেন। বীরভূম জেলা পুলিশের থেকে সম্মান পাওয়ার পর রাজ্য পুলিশ যেভাবে ভুবন বাদ্যকরকে সম্মান প্রদান করলো তাতে স্বাভাবিক ভাবেই তিনি আপ্লুত।

ভুবন বাদ্যকর দীর্ঘদিন ধরেই বাদাম বিক্রি করে আসছেন। প্রথম প্রথম সাইকেল চালিয়ে বাদাম বিক্রি করতেন এবং পরে দূর-দূরান্তের গ্রামে পৌঁছে যাওয়ার জন্য একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনেন। তাতে করেই তিনি বাদাম বিক্রি করতেন এবং বাদাম বিক্রি করার সময় এই কাঁচা বাদাম গানটি গাইতেন। হঠাৎ একদিন এই গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং তিনি সেলিব্রেটি হয়ে ওঠেন।

ভুবন বাদ্যকর এবং তার গান বিপুল জনপ্রিয়তা পেলেও এখনো পর্যন্ত তার আর্থিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। একথা তিনি নিজে আমাদের জানিয়েছেন। নিজে এই কথা জানানোর পাশাপাশি বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠীও তার এই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আরো পড়ুন