কোভিড ভ্যাকসিনের জন্য লম্বা লাইন, হয়রানির শিকার উপভোক্তাদের

রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় করোনার ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ পেতে রীতিমতো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে মানুষকে। বহু জায়গাতেই করোনা ভ্যাকসিনে দ্বিতীয় ডোজ নেই বলে জানানো হচ্ছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের জোগান থাকলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে হচ্ছে কোভিড ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ। আবার অনেকের অভিযোগ উপযুক্ত তারিখেও ডোজ মিলছে না।

এমন পরিস্থিতিতে করোনার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য লম্বা লাইন পড়ছে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে। তবে সেখানে হয়রানির শিকার হচ্ছে উপভোক্তারা। এদিন নবারুন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, লম্বা লাইন পড়েছে ভ্যাকসিনের জন্য। তবে নেই কোনো কোভিড বিধিনিষেধ নিয়ম। যা নিয়ে রীতিমতো অসন্তোষ প্রকাশ করছেন উপভোক্তারা। এদিন ভোর ৫টে থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন রামপুরহাট পৌরসভার সুশান্ত বিশ্বাস। তিনি জানান, সেই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন নম্বর পেলাম। এখন বেলা প্রায় দেড়টা। এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন পেলাম না। পাশেই এক জনৈক ব্যক্তি আমির হোসেন জানান, সকাল ৬ টায় লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন মেলেনি।

তবে ভ্যাকসিনের লাইনে যে চুড়ান্ত অব্যবস্থার রয়েছে সেবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রেনুকা প্রামাণিক। তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের লাইনে দূরত্ববিধির বালা নেই, কোভিড ভ্যাকসিন নিতে এসে হয়ত করোনা সংক্রমণ এর ভাইরাস বয়ে নিয়ে যাচ্ছি। প্রথম ডোজ নেওয়ার সময় এত হয়রানি হতে হয়নি। এগুলো জন্য কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাকেই দায়ী করেছেন সকলে।

যদিও স্বাস্থ্যকেন্দ্র সুত্রে জানা গিয়েছে, করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় স্রোত থামাতে ভারত সহ গোটা রাজ্যে ১ মে থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। মাঝে ভ্যাকসিনের জোগান কম থাকায় ভিড় হচ্ছে, যদিও রোজ ১৮০ জন উপভোক্তাকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, জেলায় জেলায় হু হু করে বাড়ছে কোভিড সংক্রমণ। হাসপাতালে বেড পেতে যত সমস্যা, তার চেয়েও অসুবিধা হচ্ছে রোগীর চিকিৎসার জন্য অক্সিজেন পেতে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অক্সিজেন না পাওয়ার। তবে গত কয়েক দিনে এই সমস্যা আরও বেড়েছে। কোথায় অক্সিজেন পাওয়া যাবে এই দুশ্চিন্তা লেগেই রয়েছে। তবে সংক্রমণ বাড়তেই মানুষজনের মধ্যে ভ্যাকসিন নেওয়ার সচেতনতা বেড়েছে। তাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে দেখা যাচ্ছে লম্বা লাইন। আর তাতেই বাড়ছে সাধারণ মানুষের হায়রানি।

আরো পড়ুন