দিবারাত্রি করোনা বিপর্যস্ত মানুষের পাশে রামপুরহাট রেড ভলানটিয়ার্স

দিবারাত্রি করোনা বিপর্যস্ত মানুষের পাশে রামপুরহাট রেড ভলানটিয়ার্স

২০২১ সালের মাঝ সময়ে প্রবেশ করার সাথে সাথেই পূর্বের সমস্ত অভিজ্ঞতাকে রীতিমত আবছা করে ফেলেছে এই বছর কোভিডের ভয়াবহতা।একে রোগযন্ত্রণা, মৃত্যুভয়, তার দোসর হয়েছে লকডাউন, কর্মহীনতা এবং ওষুধ ও অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারি।

এই অবস্থায় প্রতিবারের মতো এবারও মানুষের প্রয়োজনে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বামপন্থীদের ছাত্র-যুব সংগঠন, যাদের বর্তমান পরিচয় “রেড ভলান্টিয়ার্স”। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি এলাকার মত রামপুরহাটেও এরা সংক্রামিত অসুস্থ মানুষের দরজায় পৌঁছে যাচ্ছে তাদের সমস্যার সমাধান করতে।

ভোটের রেজাল্ট, মৃত্যুভয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিদ্বেষ, অপমান কোনকিছুতেই দমে না গিয়ে দিন বা রাত যেকোন সময়ে রামপুরহাটের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে নির্দ্বিধায়। অসুস্থ পরিবারের খাবার-ওষুধ-অক্সিজেন বা রক্ত যা কিছু প্রয়োজন হোক রামপুরহাটের অধিকাংশ মানুষের ভরসা “রেড ভলান্টিয়ার্স”, যারা মূলত বাম ছাত্র-যুব দের নিয়ে গঠিত একটি টিম। শুধু অক্সিজেন বা ওষুধ নয়,এলাকা ও কোভিড রোগীর বাড়ি স্যানিটাইজেশনের কাজ‌ও এরা নিয়মিত করে চলেছেন।

কখনও অসুস্থ ব্যাক্তিকে অক্সিজেন পৌঁছানো, কখনও উদ্বিগ্ন মানুষকে ডাক্তারি পরামর্শের সুযোগ করে দেওয়া, কখনও বাড়ি অব্দি খাবার পৌঁছে দেওয়া, এই সমস্ত কাজে এখন সারাদিন ব্যস্ত আফতাব, ভবতারণ, সুশান্ত, রাহুল, সাদ্দাম, সুলতান, বাবুলাল, তুষার, শ্বেতা রা…!
গতকালই এ পজেটিভ রক্তের খোঁজে এরকম ফোন আসে রামপুরহাট পার্শ্ববর্তী এক স্কুল শিক্ষকের, যাঁর মেয়ে প্রীতি মাল, কোভিড কে হার মানিয়ে এখন জন্ডিসের সাথে লড়াই চালাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে তাঁর জন্য রক্তদান করেন সাদ্দাম ও রজনী। ব্লাড ব্যাঙ্কে থাকা অবস্থায় তারাপীঠ এর পার্শ্ববর্তী সরলপুর গ্রামের বছর ৫৫ এর জগন্নাথ ভট্টাচার্যের বাড়ি থেকে ফোন আসে রাহুলের মোবাইলে।। গত কয়েকদিন থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগছেন তিনি। ডাক্তারের কথা মত অক্সিজেন চালাতে হবে, কিন্তু এই কালোবাজারির সময়ে কোথায় যাবেন সিলিন্ডার কিনতে? ভাড়া নিয়ে এলেও কমপক্ষে ২০০০টাকার ব্যাপার। এদিকে বাড়ির প্রধান রোজগেড়ে ছেলেটিও লকডাউনে তারাপীঠ মন্দির বন্ধ থাকায় কাজ হারা হয়ে বসে। পাশের বাড়ির বোনের কাছে রেড ভলান্টিয়ার্স দের কথা শুনেছেন, ফোন ও করেন।। এক ঘন্টার মধ্যে রাহুল, সাদ্দাম সুপিয়রা বাড়িতে পৌঁছে দিল অক্সিজেন। প্রসঙ্গত সাদ্দামের মা এই কোভিড কালে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন এক মাসও হয়নি, তবে নিজের সাধ্য মত সে বাকিদের বাঁচানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া এর আগে সরলপুরের আরো এক ব্যক্তি(উৎপল ভট্টাচার্য) দুর্গাপুরে চিকিৎসা কালে মারা গেলে মৃতদেহ দাহ করার সমস্যা দেখা দেয়। রাত ৩ টেই সেই ফোন যায় রেড ভলান্টিয়ার এর কর্মী রাহুল চ্যাটার্জির কাছে। ওই রাত্রেই তাদের মৃতদেহ সৎকারের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়।
দিনকয়েক আগে একই পরিবারের মা-বাবা-ছেলে সহ যে তিন জন কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই এ হেরে যান, তাদের পাশেও ছিল রাহুল, শ্বেতা, প্রাপ্তি ও তাদের টিম রেড ভলান্টিয়ার্স। থানা পাড়ার এক পরিবারের বাড়ির দুই ছেলেই বিদেশে কাজে নিযুক্ত, বয়স্ক মা-বাবার ভরসা সেই রেড ভলান্টিয়ার্স টিম। প্রতিদিন খোঁজ নেওয়া ছাড়াও প্রয়োজনীয় জিনিস বাড়ি অব্দি পৌঁছে দেওয়া করছেন রেড কর্মীরা।। কখনও বা করোনা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থাও করতে হচ্ছে তাঁদের।। বিরাম নেই।।

আরো পড়ুন