নদীয়ার রানাঘাটে মনসা দেবীর আরাধনায় মত্ত আনুলিয়ার ঘোষ পরিবার

নদীয়ার রানাঘাটে মনসা দেবীর আরাধনায় মত্ত আনুলিয়ার ঘোষ পরিবার

রাজ্যের করোনা বিধিকে মান্যতা দিয়ে মঙ্গলবার মনসা দেবীর আরাধনায় মত্ত হলেন নদিয়ার রানাঘাট আনুলিয়ার ঘোষ পরিবার।আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর ধরে এই পুজো চলে আসছে মহাধুমধামে।স্থানীয় এক ভক্ত জানান টাকু ঘোষ নামে এক ব্যাক্তি এই পুজোর সুচনা করেছিলেন।বর্তমানে টাকু ঘোষের পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা পুজো করছেন ।আগে আনুলিয়া জগপুর রোডের ধারে ঘোষ পরিবার সহ আরো বেশ কয়েকটি পরিবার মিলে এই পুজো হত।কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারনে সেখানের পুজো প্রশাসন থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়।সেই মনসা পুজো টাকু ঘোষের নিজের জমিতে মন্দির স্থাপন করে বিগত দু বছর ধরে চলছে।পুজো উপলক্ষ্য চলে ছোট মেলা।চলে রাতে ঝাপাং অর্থাৎ মনসা গান।আসে জেলা ও জেলার বাইরে থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। অনেকে মনসা দেবীর কাছে মানত করে ফল পেলে তারা মায়ের কাছে তাদের মনস্কামনা পুর্ন হলে পুজো দিতে আসেন। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে রানাঘাট আনুলিয়া বাধানো বটতলার কাছে জাগ্রত এই পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা ইতিহাস।এখনও কুমরো বলি, পাঠা বলি হয়।তবে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোপুজোর রেশ কোন অংশেই কম নয় এখানে। ঘোষ পরিবারের এই মনসা পুজো হলেও তা এখন আস্তে আস্তে সার্বজনীন হয়ে উঠেছে।দুর্গো পুজো সাতদিনের হলেও এখানে দেবী মনসার পুজো হয় ৩ দিনের।তিনদিন ধরে নিষ্ঠার সাথে চলে পুজো অর্চনা।অনেক মহিলা চুর্নী নদী থেকে স্নান করে সরাসরি মায়ের মন্দিরে রাস্তায় শুয়ে গন্ডি কেটে কেটে আসেন।এবিষয়ে ঘোষ পরিবারের সদস্য পার্থ প্রতিম ঘোষ বলেন প্রতি বছরই আনুলিয়া অঞ্চলে কুল দেবী ঘরে আসেন এইসময়ে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন আগামী দিনে এই পুজোর ঐতিহ্য পরম্পরা ধরে রাখতে সকলের সহযোগিতা এবং আগামী দিনে এই পুজোকে সামনে রেখে কোন সামাজিক কাজে ব্রতী হতে পারেন তার জন্য চেস্টা করে যাবেন । পুজো উপলক্ষ্যে তিনদিন ধরে চলে নানা ধর্মীয় অনুসঠান।সারারাত ধরে চলে মনসা গান।এককথায় সারাদিন মনসা দেবীর গান, পুজো এনং দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে।

আরো পড়ুন