নিজেকে ভগবান দাবি করে বট গাছের টঙে মহিলা,গাছ থেকে নামাতে হিমশিম খেতে হল পুলিশ থেকে দমকল বাহিনীকে

নিজেকে ভগবান দাবি করে বট গাছের টঙে মহিলা,গাছ থেকে নামাতে হিমশিম খেতে হল পুলিশ থেকে দমকল বাহিনীকে।

দাসপুর থানার আনন্দগড়ে জামাইবাবুর বাড়িতে পুজো করছিলেন,তারপর হঠাতই নিজেকে ‘ভগবান’ হিসেবে দাবি করে পাশেরই এক বট গাছের মগ ডালে চড়ে বসেছেন ওই মহিলা।ওই মহিলার নাম আরতী সিং স্বামীর বাড়ি কেশাপাঠ এলাকায়,স্বামীর থেকে বিচ্ছিন্ন তিনি।প্রায় ৪৫ বছর বয়সের এই মহিলা দীর্ঘদিন ধরেই আনন্দগড়ে দিদি গীতা সিং এর কাছে থাকেন।আজ বুধবারের সকালে হঠাৎই এই কান্ড।অনেক অনুরোধ করেও তাঁকে গাছ থেকে নামানো যায়নি।খবর দেওয়া হয় দাসপুর পুলিসকে।এদিকে ওই মহিলাকে দেখার জন্য পাশাপাশি গ্রাম থেকে শয়ে শয়ে মানুষ ভিড় করেন। দাসপুর থানার পক্ষে ও সি অমিত মুখোপাধ্যায় খবর পেয়ে সাথে সাথে ঘাটালের দমকল বিভাগে জানান। এদিকে গাছের নিচেই বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইন। পুলিশি তৎপরতার সাথে বিদ্যুৎ দপ্তরে জানিয়ে ওই এলাকার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।ততক্ষণে ওই মহিলা গাছের টঙে উঠে বসে চিৎকার শুরু করছেন।হাত ছেড়ে অঙ্গভঙ্গি করছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘাটাল মহকুমার অগ্নি ও জরুরী পরিষেবা কেন্দ্রের সাব অফিসার সৌরভ মণ্ডল দমকলের একটি ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর কর্মী ও অন্যান্য অফিসারদের নিয়ে ওই মহিলাকে গাছ থেকে নামানোর চেষ্টা শুরু করেন। মহিলা কোনোভাবেই গাছ থেকে নামতে রাজি নন। পরিবার জানায়,তিনি মানসিকভাবেও ভারসাম্য হীন।অনেক কষ্টে জীবন বাজি রেখে অফিসাররা মহিলার কাছে পৌঁছালেও মহিলা নিজেকে দেবী মনসা বলে সাপের ফনার ন্যায় হাত পাকিয়ে গাছের মধ্যেই অফিসারদের আঘাত করতে থাকেন।কিন্তু সৌরভবাবুর নেতৃত্বে অফিসাররা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আঘাতের পর আঘাত খেয়ে মহিলার সাথে ভাব জমাতে থাকেন এবং তারই ফাঁকে দক্ষতার সাথে মহিলাকে দড়ির মধ্যে আবদ্ধ করতে থাকেন।এভাবে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে ওই কাজ।তার পর অতি যত্নে মহিলাকে গাছ থেকে একেবারে অক্ষত অবস্থায় দুপুর নাগাদ নামাতে সক্ষম হন সৌরভবাবু ও তাঁর টিম।মহিলাকে নামিয়ে তাঁকে দাসপুর পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা অফিসারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।পুলিশের তরফে ওই মহিলার পরিবারকে নির্দেশ দেন এর পর থেকে অর্চনা দেবীকে তাঁরা যেন চোখে চোখে রাখেন এবং সরকারি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা করান।সব মিলিয়ে আজকের এই ঘটনায় প্রশাসনের সমস্ত দপ্তরের অফিসারদের তৎপরতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা,পাশাপাশি হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন সকলেই।

আরো পড়ুন