পূরণ হলো না স্ত্রীকে দেওয়া শেষ প্রতিশ্রুতি, চলে গেলেন সস্ত্রীক বিপিন রাওয়াত

পূরণ হলো না স্ত্রীকে দেওয়া শেষ প্রতিশ্রুতি, চলে গেলেন সস্ত্রীক বিপিন রাওয়াত

নিজস্ব প্রতিবেদন : মৃত্যুর আগে একটি স্বপ্ন ছিল সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াতের। সেই স্বপ্ন পূরণের প্রতিশ্রুতি তিনি খোদ দিয়েছিলেন তার সমাজসেবী স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াতকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন এক নিমেষেই ভেঙে পড়ল বুধবার। এই প্রতিশ্রুতি ও স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল বিপিন রাওয়াতের কপ্টার ভেঙ্গে পড়তেই।

বুধবার সস্ত্রীক বিপিন রাওয়াত ওয়েলিংটনের সেনা কলেজের একটি অনুষ্ঠানে যোগদান দিতে যাচ্ছিলেন। তামিলনাড়ুর কুন্নুর থেকে তার চপার রওনা দিলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে যায় এই দুর্ঘটনা। যে চপারে ছিলেন সস্ত্রীক বিপিন রাওয়াত ছাড়াও নিরাপত্তারক্ষী, পাইলট সহ আরও ১২ জন। ওই দিন সন্ধ্যায় গড়াতেই জানা যায়, এই ১৪ জনের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ১৩ জনই। প্রাণ হারানোদের এই তালিকায় ফুটে ওঠে বিপিন রাওয়াত এবং মধুলিকা রাওয়াতের নাম।

সস্ত্রীক বিপিন রাওয়াতের আকস্মিক প্রয়াণে যখন গোটা দেশ ভেঙে পড়েছে সেই সময় তার শ্যালক যশবর্ধন সিং মনে পড়িয়ে দিলেন বিপিন রাওয়াতের তার স্ত্রীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা। যশবর্ধন সিং জানিয়েছেন, আগামী বছর মধ্যপ্রদেশে যাওয়ার কথা ছিল বিপিন রাওয়াতের। সেখানে তার স্ত্রীর পূর্বপুরুষদের ভিটে ঘুরে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং একই সঙ্গে কথা দিয়েছিলেন একটি সৈনিক স্কুল তৈরি করার। কিন্তু এই দুর্ঘটনার পর সেই প্রতিশ্রুতি এবং স্বপ্ন দুটিই ধুলোয় মিশে গেল।

দিদি মধুলিকা রাওয়াত সম্পর্কে বলতে গিয়ে চোখের জলে ভাসান যশবর্ধন সিং। পাশাপাশি তিনি তখনো পর্যন্ত সাহস পাননি তার বয়স্ক মাকে এই দুঃসংবাদ দেওয়ার। তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে দুজনের বিয়ে হয়েছিল। যে সময় বিপিন রাওয়াত ছিলেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। ২০১২ সালে শেষবার তারা এসেছিলেন শাহদোলে।

এর পাশাপাশি যশবর্ধন সিং জানিয়েছেন, দিদি ক্রমাগত জেদ করার কারণে সেনা সর্বাধিনায়ক বিপিন রাওয়াত দিদিকে কথা দিয়েছিলেন আগামী বছর জানুয়ারি মাসে শাহদোলে আসবেন। পাশাপাশি ওই জেলার পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য একটি সেনা স্কুল তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন বিপিন রাওয়াত। সেনা স্কুলে সঠিক শিক্ষা লাভের মধ্য দিয়েই পরবর্তী প্রজন্ম সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে এমনটাই মনে করতেন বিপিন রাওয়াত।

আরো পড়ুন