ফের উত্তপ্ত সন্দেশখালি, ভাঙচুর দলীয় কার্যালয়, আহত তিন বিজেপি কর্মী

ফের উত্তপ্ত সন্দেশখালি, ভাঙচুর দলীয় কার্যালয়, আহত তিন বিজেপি কর্মী

অর্ণব মৈত্র, বসিরহাট :-বিজেপির কার্যকারিনী বৈঠক চলাকালীন দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে ব্যাপক পরিমাণে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠলো শাসক দলের বিরুদ্ধে। বাধা দিতে আসলে বিজেপি কর্মীদের ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার সন্দেশখালি ১ নম্বর মন্ডল কমিটির উদ্যোগে ন্যাজাটের বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে এক কার্যকারিনী বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই বৈঠক শুরুর ঠিক আগেই এলাকার বেশ কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের ভেতর ঢুকে ব্যাপক পরিমাণে ভাঙচুর চালায়। কার্যালয়ের ভিতরে থাকা একাধিক চেয়ার টেবিল, আলমারি ভেঙে তছনছ করে দেয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে পালিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা। তাতে বাধা দিতে আসলে তিনজন বিজেপি কর্মীদের মারধর করে ওই দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার কথা জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসে ন্যাজাট থানার পুলিশ। তারা এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি আহত তিন বিজেপি কর্মীকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তার কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে আসে বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ সহ বেশ কিছু জেলা বিজেপির নেতৃত্বরা। এরপর আহত ওই দিন বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তারা। প্রসঙ্গত একুশে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবির পর এই এলাকায় প্রচুর বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট হয়েছিল। সেই ঘটনার আতঙ্ক কাঁপিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার দলীয় কার্যালয়ের ভিতর ঢুকে হামলা চালানোকে কেন্দ্র করে এলাকার বিজেপি কর্মী সমর্থকরা রীতিমতো আতঙ্কিত। এই প্রসঙ্গে বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ জানান,’এই এলাকায় আমাদের ভোটব্যাংক যথেষ্ট মজবুত রয়েছে, সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওদের নিশ্চিত হার জেনে ওরা এখন থেকেই আমাদের বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মারধর করে ভয় দেখিয়ে রাখতে চাইছে, আজকের যে ঘটনা দিয়েছে সেই প্রসঙ্গে ন্যাজাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি, পুলিশ ব্যবস্থা নিলে ভালো না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের নামবো ‘। এই প্রসঙ্গে সন্দেশখালীর বিধায়ক সুকুমার মাহাতো জানান,’বিজেপির এসব নাটক, ওই এলাকায় বিজেপির কোন সংগঠন নেই সম্প্রতি ওদের জেলা সভাপতির পরিবর্তন নিয়ে র স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, সেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের জেরেই ওদের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করেছে ওরাই, আর এখন শাসক দলের নাম করে ওরা মিডিয়ার সামনে এসে সংগঠন বৃদ্ধি করতে চাইছে।

আরো পড়ুন