ফের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের সাথে দেখা করলেন বিজেপি বিধায়ক।

ফের ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ, ঘরছাড়া দলীয় কর্মীদের সাথে দেখা করলেন বিজেপি বিধায়ক।

ফের ভোট পরবর্তী হিংসার কবলে পড়ে ঘরছাড়া হয়ে মাথাভাঙ্গা বিধানসভার খাটের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বেশকিছু পরিবারের প্রায় ৩৫ জন। শুক্রবার ওই এলাকায় দলীয় নেতৃত্বদের নিয়ে পরিদর্শন করেন বিজেপির মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুশীল বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ৭ নং মন্ডলের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত বর্মন ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বরা।

ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ফের এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাদের উপর আক্রমণ করে মারধর করে ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ।তাদের মধ্যে চানেশ্বর দাস, গৌতম দাস, শ্যামল দাস, শতীশ দাসদের অভিযোগ তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের আক্রমণের স্বীকার হয়ে ফের ৭০ থেকে ৮০ টি পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে। মানসাই নদী সংলগ্ন খাটেরবাড়ি এলাকায় বেশকিছু পরিবারের প্রায় ৩৫জন তারা প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে গাছের নীচে তাঁবু টানিয়ে কোন রকমে দিন গুজরান করছেন। এমতাবস্তায় প্রশাসনিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তাদের ঘরে ফেরাতে।

তাদের দাবি এলাকায় পাঠানো হলে ফের সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে তৃণমূল, তাই তাদের ছাট খাটের বাড়ি এলাকায় প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ক্যাম্প বসানোর দাবি জানিয়েছেন। গত ২ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক হিংসায় মাথাভাঙ্গা বিধানসভার পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট খাটেরবাড়ি ও বেশকিছু এলাকার প্রায় শতাধিক বিজেপি কর্মীরা ঘর ছাড়া হয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। এরপর গত ১৩ মে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় এলাকায় পরিদর্শনে এসে ওই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে যান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ঘরের হাল-হকিকত খতিয়ে দেখেন। এবং বাড়ীর মানুষদের সাথে ও কথা বলেন। রাজ্যপাল খোঁজ নিয়ে বলেন পুলিশ কি এসেছিল ঘটনাস্থলে?তিনি গোটা বিষয়টি শুনেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে।শেষে রাজ্যপালও নিজে পরিস্থিতি দেখে নিজের অশ্রুকে আটকে রাখতে পারেননি তাকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায় ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই হুমকি আসছিলো এলাকায় বোমাবাজি করছিলো তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ।তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা দল বল নিয়ে এলাকার বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে চড়াও হয়,বাড়ি ভাঙচুর করার পাশাপাশি লুট পাঠ ও চালায় বলে অভিযোগ করেন এলাকায় আশ্রয় নেওয়া ওই বিজেপি কর্মীরা,প্রশাসনের কাছে বাড়ি ফেরাতে এদিন ফের আর্জিও জানিয়েছেন তারা।এবিষয়ে বিধায়ক সুশীল বর্মন বলেন বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ২ রা মে থেকে কার্যত এরা ঘর ছাড়া।এরপর রাজ্যপাল এসেছিলেন সেসময়ে তাদের ঘরে পৌছে দেওয়া হলো। এরপর থেকে প্রতিনিয়ত রাতের বেলা মদ্যপ অবস্থায় আক্রমণ করছে বলে অভিযোগ করেন। আমরা মানবাধিকার কমিশন ও এফাইআর করি।একারণেই ওরা আরো আক্রমণ করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ত্রাসের নিতী বদল করছে না।


মানুষের উপর আক্রমণ করে মানুষকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাঁচতে দিচ্ছে না তৃণমূল। এরা চাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের যারা শুধু সমর্থক তারাই শুধু ঘরে থাকবে আর বাকি সমস্ত মানুষকে জঙ্গলে পাঠাবে নয়তো এদেরকে শেষ করে দিবে এমন চিন্তা ভাবনা তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের। বেছে বেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মারধর, বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট করছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা, কিন্তু পুলিশ প্রশাসন কে বারংবার জানানো হলেও পুলিশ প্রশাসন কোন ব্যাবস্থা নেয় নি বলে অভিযোগ তুলেন তিনি।তিনি বলেন মাথাভাঙ্গার মহকুমা শাসককে বিষয়টি জানিয়েছি, মাথাভাঙ্গার আইসিকেও জানানো হবে।পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্র বিপন্ন তাই গণতন্ত্র ও আইন প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা বিজেপির পক্ষ থেকে যাবতীয় আন্দোলন চালিয়ে যাবো।তিনি এদিন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন অবিলম্বে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নেবেন।


যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়।তৃণমূল কংগ্রেসের মাথাভাঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের পরাজিত(বিজয়ী) প্রার্থী তথা তৃণমূল নেতা গিরীন্দ্রনাথ বর্মন অভিযোগ অস্বীকার ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে জানান তৃণমূল কোনদিনও সন্ত্রাস সৃষ্টি করেনি,এলাকায় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে ওরা, ভোটের পরে এরা কে কোথায় আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছে নাকি কাজের সন্ধানে গিয়েছে সেটাকে যদি সন্ত্রাস বলে তাহলে কিছু বলার নেই। যদি বিজেপির কোন কর্মী ঘরছাড়া হয়ে থাকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবেই বলছি তাহলে তারা আমাকে জানাক।আমি তাদের সাদরে বাড়িতে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব নিচ্ছি।আমার মনে হয় না এমন ঘটনা কিছু নেই, কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে বা অর্থনৈতিক ভাবে যদি বাড়ির বাইরে থাকে সেটাকে নিয়ে রাজনৈতিক রঙ লাগিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি, যেহেতু তাদের কোন ইশ্যু নেই।পুলিশ জানিয়েছে সমস্ত ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আরো পড়ুন