বগটুই কাণ্ডের নয়া মোড়, গ্রেফতার অন্যতম মূল অভিযুক্ত

বগটুই কাণ্ডের নয়া মোড়, গ্রেফতার অন্যতম মূল অভিযুক্ত

প্রীতম দাস রামপুরহাট :-

বগটুই-কাণ্ডে নয়া মোড়। এই ঘটনায় গ্রেফতার বগটুই কান্ডে অন্যতম মূল অভিযুক্ত সোনা সেখ। গতকাল বীরভূমের সিউড়ী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোনা সেখকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া ছিল এই মূল অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যা সিবিআইয়ের কাছে বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর আগেও গত আগস্ট মাসে মুম্বাই থেকে বগটুই গণহত্যাকাণ্ডে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)। সিবিআই সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম নুর আলি শেখ, শের আলি শেখ, বিকির আলি শেখ, আসিফ শেখ, জসিফ শেখ, সাইদুল শেখ, ও জামিনুল শেখ। তদন্তে ধৃতদের যোগ থাকার সূত্র খুঁজে পায় সিবিআই ।

২১ মার্চ বগটুই গণহত্যা হয়। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দায়ের বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলাও। যার পরিপেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। এরপর ধৃতদের যোগ থাকার সূত্র খুঁজে পায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। এরপরই একের পর এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

উল্লেখ্য, ২১ মার্চ বীরভূমের রামপুরহাটের ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রামপুরহাট বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান ভাদু শেখকে। সেই খুনের বদলা নিতে বগটুই গ্রামে ১০ টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে আটজনের পোড়া দেহ উদ্ধার করা হয়। দিন কয়েক পর রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য ও চাকরির কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

ঘটনাস্থলে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল তৃণমূলের ব্লক সভাপতির উস্কানিতে এই নারকীয় ঘটনা ঘটেছে।
তারপরেই আনারুল হোসেন হেপাজতে নেয়। তবে সিবিআই-এর চার্জশিটে আনারুল হোসেনকে বগটুই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড বলে উল্লেখ করে।সিবিআই-এর বক্তব্য, আনারুলের উস্কানিতেই গ্রামে গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছিল। সিবিআই-এর বক্তব্য, ভাদু শেখ খুনের পর আনারুলই রামপুরহাট হাসপাতালে গিয়ে গ্রামবাসীদের উস্কে দিয়েছিল। সেই উস্কানির পরেই বোমা-লাঠি, পেট্রোল নিয়ে গ্রামের দিকে যায় উন্মত্ত জনতা। চলে ভাঙচুর, আগুন লাগানো।

আরো পড়ুন