ভাদু সেখের খুনের মূল অভিযুক্তের ফের সিবিআই হেপাজতের নির্দেশ রামপুরহাট আদালতের

ভাদু সেখের খুনের মূল অভিযুক্তের ফের সিবিআই হেপাজতের নির্দেশ রামপুরহাট আদালতের

বগটুই-কাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া অন্যতম মূল অভিযুক্ত সোনা সেখকে ফের ৬দিনের সিবিআই হেপাজত দিল রামপুরহাট আদালত। গত ১৯ সেপ্টেম্বর বীরভূমের সিউড়ী এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোনা সেখকে গ্রেফতার করে সিবিআই। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া ছিল এই মূল অভিযুক্ত। সেদিন আদালতে হাজির করানো হলে ৪ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। আজ তাকে ফের আদালতে পেশ করে সিবিআই। পাশাপাশি অভিযুক্তকে নিজেদের হেপাজতে নিতে আবেদন করে সিবিআই। এরপরই বিচারক ৬ দিনের সিবিআই হেফাজতের আবেদন মঞ্জুর করেন। এনিয়ে দুবার মূল অভিযুক্তকে নিজেদের হেপাজত পেল তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। আগামী ২৯ তারিখ আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।

ভাদু সেখের খুনের অভিযোগে ১নম্বরে নাম ছিল সোনা সেখের। ঘটনার পর সোনা সেখের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় ৭ জনের। ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল সোনা সেখ। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া ছিল এই মূল অভিযুক্ত। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যা সিবিআইয়ের কাছে বড়সড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর আগেও গত আগস্ট মাসে মুম্বাই থেকে বগটুই গণহত্যাকাণ্ডে আরও সাতজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই (CBI)। সিবিআই সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম নুর আলি শেখ, শের আলি শেখ, বিকির আলি শেখ, আসিফ শেখ, জসিফ শেখ, সাইদুল শেখ, ও জামিনুল শেখ। তদন্তে ধৃতদের যোগ থাকার সূত্র খুঁজে পায় সিবিআই ।

২১ মার্চ বগটুই গণহত্যা হয়। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দায়ের বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলাও। যার পরিপেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তের নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই। এরপর ধৃতদের যোগ থাকার সূত্র খুঁজে পায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা। এরপরই একের পর এক ব্যক্তিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে গ্রেফতার করে সিবিআই।

উল্লেখ্য, ২১ মার্চ বীরভূমের রামপুরহাটের ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে রামপুরহাট বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয় বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান ভাদু শেখকে। সেই খুনের বদলা নিতে বগটুই গ্রামে ১০ টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন সকালে আটজনের পোড়া দেহ উদ্ধার করা হয়। দিন কয়েক পর রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও এক মহিলার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকা পরিদর্শনে পৌঁছন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য আর্থিক সাহায্য ও চাকরির কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি।

আরো পড়ুন