বগটুই গ্রামে শহীদ বেদি তৈরির প্রতিযোগিতায় বিজেপি -তৃনমূলের

বগটুই গ্রামে শহীদ বেদি তৈরির প্রতিযোগিতায় বিজেপি -তৃনমূলের

প্রীতম দাস রামপুরহাট :-

বগটুই গণহত্যা কাণ্ডের এক বছর পূর্ণ হবে আগামিকাল, মঙ্গলবার। যাকে ঘিরে সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। শহিদবেদি নির্মাণ নিয়ে চলছে জোর রাজনৈতিক তরজা। মঙ্গলবার বগটুইতে যাচ্ছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

 

স্বজনহারা মিহিলাল শেখের বাড়ির সামনে শহিদবেদি আগেই তৈরি করেছে বিজেপি। রবিবার বিকেল থেকে তার সামনেই আরও একটি শহিদবেদির কাজ শুরু করেছে তৃণমূল। যদিও বিজেপির তৈরি শহিদবেদি নির্মাণের বিষয়টি মিহিলাল স্বীকার করলেও দ্বিতীয় অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেসের শহিদবেদি নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন। মিহিলালের দাবি, “এতদিনে আমাদের কেন মনে পড়ল তৃণমূলের?” যদিও তিনি আর রাজনীতি করেন না বলে স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, “আমরা তো সকলেই তৃণমূলে ছিলাম।” গত বছর ২১ মার্চ রাত আটটায় রামপুরহাট বগটুই মোড়ে বোমা মেরে খুন করা হয়, রামপুরহাট ১নং ব্লকের বড়শাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ভাদু শেখকে। তারপরই হিংসা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। খুনের বদলা নিতে শিশু-সহ ৭ জনকে খুন করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় আরও তিন জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার এক বছরের মাথায় বিজেপির তরফ থেকে গত সপ্তাহে একটি শহিদবেদি তৈরি করা হয়েছে। আর তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মঙ্গলবার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বগটুই গ্রামে যাবেন। শহিদবেদিতে মাল্যদান করবেন তিনি।রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বগটুইতে শুভেন্দু যাচ্ছেন বলেই দাবি তৃণমূলের।

রবিবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূলের শহিদবেদি তৈরির কাজ। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সেই বেদিতে মাল্যদান করতে কোন নেতা আসবেন, তা জানা যায়নি। যদিও বেদি তৈরির প্রতিযোগিতায় নাম লেখায়নি সিপিআইএম। দলের জেলা সভাপতি গৌতম ঘোষ জানান, তাঁরা সোমবার বিকাল ৪টেয় বগটুই মোড় থেকে মৌন মিছিল করবেন। সেই মিছিলে যোগ দেবেন সিপিএম নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। এক কথায় বগটুইয়ের সেই মর্মান্তিক ভয়াবহ ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজনৈতিক লাভ তুলতে আসরে সকলেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বগটুইবাসীর বক্তব্য, এক বছর খবর নিতে আসেনি কোনও রাজনৈতিক দল। গ্রামের মানুষরা শান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। তাহলে কেন ফের স্মরণের নামে রাজনৈতিক উসকানি দেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন স্থানীয়রা।

আরো পড়ুন