বালি পাচার রুখতে পুলিশে অভিযোগ জেলা প্রশাসনের

প্রীতম দাস বীরভূম :-

অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন বীরভূম। এই পরিস্থিতিতেও নদীর পাড় কেটে অবৈধ বালি পাচার চলছে বলে অভিযোগ। এই বালির বেশির ভাগটাই আসছে বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ড থেকে। জেলার মধ্যেও বেশ কিছু বালি ব্যবসায়ী অবৈধভাবে ঘাট চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। যার অনেকটাই পুলিশের সঙ্গে যোগসাজোশে চলছে বলেও অভিযোগ। বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলবার জেলা ভূমি দফতরের একটি দল স্থানীয়দের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এলাকায় যান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশের মদতেই নয়, জেলার বাইরে থেকেও অবৈধ বালি চালানোর জন্য পুলিশের কিছু অফিসার এর নিয়ন্ত্রণ করছেন। যদিও পুলিশের কর্তারা দাবি করেছেন, বালি দেখলেই সেই গাড়ি আটক করা হচ্ছে। রামপুরহাটে গত কয়েকদিনে এরকম বহু গাড়ি আটক করা হয়েছে।

রামপুরহাট থানার নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের একতারা গ্রামে বালির অবৈধ মজুত চলছে। বীরভূম-ঝাড়খণ্ড সীমান্তে ব্রাহ্মণী নদীর পাশেই একতারা, বৈধরা গ্রামে এই অবৈধ মজুদের অভিযোগ করে ভূমি দফতর। তাদের অভিযোগ ব্রাহ্মণী নদীর উপর বীরভূম লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে শাল নদীর সেতু আছে। প্রতিদিন সেখান থেকে শ’য়ে শ’য়ে ট্রাক্টর ভর্তি বালি এসে বীরভূমের গ্রামে জড়ো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগে আরও জানান হয়েছে, বালি তোলার জেরে ওই সেতুর গোড়া হালকা হয়ে যাচ্ছে। এই সেতু থেকে দুশো মিটারের

মধ্যে বীরভূমের নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকা। সেখান থেকেও অবৈধভাবে বালি তোলা হচ্ছে। মজুত বালি প্রতি রাতে চড়া দামে রামপুরহাট শহরের ভিতর দিয়ে উত্তরবঙ্গে বা কলকাতায় পাচার হয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বীরভূম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি থানা এলাকায় তিন সদস্যের কমিটির কাছে চিঠি দিয়ে অবৈধ বালি চোরাচালানের বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়। বর্ষার মরশুমের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীর ঘাট থেকে বৈধ, অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যবসায়ীদের বালি তোলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ও সি দের ক্রাইম কনফারেন্সে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কারণ জেলার থানা এলাকায় অবৈধ বালির পাচার রুখতে ব্লকের ভূমি আধিকারিক, থানার ওসি ও বিডিওকে নিয়ে থ্রি ম্যানস কমিটি’ বা তিন সদস্যর কমিটি গঠন করা আছে। এরপরেও থানার ওসিরা দাঁড়িয়ে থেকে দিনের বেলা অবৈধ বালি মজুদ করছেন বলে গণসাক্ষরিত চিঠি জেলা প্রশাসনের কাছে এসেছে। তাতে শাসক দলের এক নেতার মদতে নানুর এলাকায় অবৈধ বালি পাচার চলছে বলেও অভিযোগ এসেছে। এমনকি জেলা থেকে বদলি হয়ে যাওয়া এক পুলিশ অফিসারের মদতে মহম্মদবাজারে এবং ইলামবাজারের অজয়ের ঘাটেও বালি পাচার চলছেঅভিযোগ আসছে।

জেলা পুলিশ সুপার রাজনারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের নির্দেশে যেহেতু গত একমাস থেকে পুলিশ আর রাস্তায় নেমে নজরদারি করে না, তাই একবার বালি ভর্তি ট্রাক নিয়ে রাস্তায় উঠতে পারলেই নিশ্চিন্তে বালি পাচার করা যাচ্ছে।

আরো পড়ুন