বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বীরভূমে

বিজেপি কর্মীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বীরভূমে

লাল্টু : বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের বিজেপির A মন্ডলের বুথ সহ সভাপতি মিঠুন বাগদির মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বীরভূমে। বিজেপির অভিযোগ তাদের এই বুথ সহ সভাপতিকে পিটিয়ে খুন করেছে তৃণমূল আশ্রিতরা। যদিও তৃণমূলের অভিযোগ, এই ঘটনার সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই, সম্পূর্ণটাই পারিবারিক বিবাদ।

শনিবার মৃত ওই বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ উদ্ধার হয় বীরভূমের খয়রাশোল ব্লকের কাঁকড়তলা থানার অন্তর্গত নবসন গ্রামে। জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে ওই গ্রামের কিছুটা দূরে ২৭ বছর বয়সী রাজু বাগদি নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। যে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মৃত রাজু বাগদির পরিবারের লোকজন সম্প্রতি মৃত মিঠুন বাগদির নামে খুনের অভিযোগ করেছিলেন। যে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে এবং পরে জামিন পান।

বিজেপি কর্মী মিঠুন বাগদি সম্প্রতি তিন মাস পর জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরেন। এই পরিস্থিতিতে রাজু বাগদির পরিবারের বেশ কিছু লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিঠুন বাগদিকে পাকড়াও করেন এবং তাকে বেধড়ক মারধর করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ রক্তাক্ত অবস্থায় মিঠুন বাগদিকে উদ্ধার করে নাকরাকোন্দা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসকেরা দেখে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহার অভিযোগ, “আমাদের এই বিজেপি নেতাকে পরিকল্পিতভাবে কিছু লোক আক্রমণ করে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। গতকাল যখন মিঠুন থানা থেকে তার মোটরবাইক আনতে যান ঠিক সেই সময় এই আক্রমণ করা হয়। যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত তারা প্রত্যেকেই তৃণমূল কর্মী সমর্থক।”

তবে এই মৃত্যুর ঘটনায় রাজনীতিকে টানার জন্য তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় ধ্রুব সাহার বক্তব্যকে চরম নিন্দা করে জানিয়েছেন, “ঘটনাটা জলের মত পরিষ্কার। এটা সম্পূর্ণ পারিবারিক বদলা নেওয়ার ঘটনা। সবকিছুতেই তৃণমূল-বিজেপি সম্পর্ক টেনে আনা মোটেই ঠিক নয়। আসলে ওরা এখন সব জায়গাতেই তৃণমূলের ভূত দেখছে। আমি অনুরোধ করবো, ধ্রুব সাহা একজন দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। তাই কোন কিছু মন্তব্য করার আগে অন্ততপক্ষে ঘটনাস্থলে এসে বা ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে তারপরেই মন্তব্য করা উচিত। তা না হলে তার এই ভুল মন্তব্যের দরুন পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হতে পারে।”

ঘটনার পর পুলিশ অভিযোগ পেয়ে ইতিমধ্যেই মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন চারজন মহিলা এবং একজন পুরুষ, যারা প্রত্যেকেই রাজু বাগদির পরিবারের সদস্য। খুব সম্ভবত ধৃতদের দুবরাজপুর আদালতে তোলা হবে।

আরো পড়ুন