বীরভূম পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে নদীতে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচলো তিনটি প্রাণ

বীরভূম পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে নদীতে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচলো তিনটি প্রাণ

বীরভূম জেলা পুলিশ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকল্প এবং পরিষেবার মধ্য দিয়ে সদা সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আর তাদের এই সকল প্রচেষ্টাই হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। আর এবার এই বীরভূম পুলিশেরই দুঃসাহসিক অভিযানে নদীর জলে তলিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচল তিন-তিনটি প্রাণ।

নদীর জলে তলিয়ে যাওয়ার এমন ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার মধ্যরাতে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে এ দিন হিংলো নদীর জলাধার থেকে ৪০০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়। এই জল ছাড়ার সাথে সাথেই হিংলো নদীতে জল বেড়ে। সেই জল বেড়ে যাওয়ায় হিংলো নদীর উপর খয়রাশোল ব্লকের লোকপুর থানা ও কাঁকড়তলা থানা মধ্যবর্তী জায়গায় থাকা গাংপুরের কাছে সতিঘাটা ভাসা ব্রিজের উপর জল উঠে যায়।

ইতিমধ্যে রাত্রি আড়াইটা নাগাদ ওই ভাসা ব্রিজের উপর দিয়ে আসছিল একটি মোটর বাইক এবং একটি চারচাকা গাড়ি। জলের তীব্র দাপটে ব্রিজের মধ্যেই আটকে যায় ওই চারচাকা গাড়িটি এবং মোটরবাইকটি। ওই গাড়ি এবং মোটরবাইকে পিডিসিএলের কর্মীরা ছিলেন। তাদের মধ্যে তিনজন মাঝ ব্রিজেই আটকে যান। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর হয়ে দাঁড়ায় যে তারা যেকোনো সময় জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে পারেন।

এমতো অবস্থায় সেখানে কাঁকড়তলা এবং লোকপুর থানার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের উদ্ধার করার জন্য। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তিনজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করার জন্য কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা দড়ি জোগাড় করে সঙ্গে সঙ্গে দড়ি ফেলেন। পাশাপাশি এসডিও ইরিগেশনকে ফোন করে গেট বন্ধ করতে বলেন। এরপর ঘণ্টা দেড়েকের প্রচেষ্টায় ভোর ৪টে নাগাদ অবশেষে ওই তিনজন ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা।

নদীর জলে তলিয়ে যাওয়া থেকে উদ্ধার হওয়া এই তিনজন ব্যক্তি হলেন হাফিজুর রহমান, বিক্রম বাউড়ি এবং শেখ সেলিম। এই তিনজনের বাড়ি কল্যাণপুরে। দীর্ঘক্ষণ ধরে তারা জলের মধ্যে থাকায় উদ্ধারের সময় সাময়িক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেও বর্তমানে তারা প্রত্যেকে সুস্থ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

আরো পড়ুন