ব্লকের সামনেই ব্লক কংগ্রেস সভাপতিকে মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল

ব্লকের সামনেই ব্লক কংগ্রেস সভাপতিকে মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল

মনোনয়নের প্রথম দিনেই অশান্ত হল বীরভূমের মাড়গ্রাম। পুলিশের সামনেই মারধর করা হল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মহম্মদ শাজাহান আলিকে। সেই ছবি তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হন দৈনিক পত্রিকার চিত্র সাংবাদিক।
শুক্রবার ছিল মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রথম দিন। এদিন বীরভূমের রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন বিডিও। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লক সভাপতি মহম্মদ শাজাহান আলি। বৈঠক শেষে তিনি ব্লক অফিস থেকে বেরিয়ে লাগোয়া মাড়গ্রাম থানার পাশে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে ফের ব্লক অফিসে যাচ্ছিলেন নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু বিষয় জানতে। সে সময় ব্লক অফিসের সামনেই পুলিশের উপস্থিতিতে তার স্কুটি থামিয়ে শুরু হয় মারধর। ছিঁড়ে দেওয়া হয় জামা। হুমকি দেওয়া হয় পুনরায় মনোনয়ন জমা দিতে এলে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। শাজাহান বলেন, “যারা মারধর করেছে সকলে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে একইভাবে মনোনয়নে বাধা দেয় এরা। ফলে আমরা মনোনয়ন জমা দিতে পারিনি। স্কুল নির্বাচনেও একইভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। এরা মুখে বলে শান্তিতে ভোট হবে। কিন্তু বাস্তবে এরা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতে চাই। পুলিশের সামনে মারধর করা হলেও পুলিশ ছিল ঠুঁটো জগন্নাথ”।
এদিকে মারধরের ছবি তুলতে গিয়ে আক্রান্ত হন একটি দৈনিক পত্রিকার চিত্র সাংবাদিক সব্যসাচী ইসলাম। তার ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। বেশ কিছু ছবি মুছে দিতে বাধ্য করে তারা। তারপর রেহাই পান সাংবাদিক। তিনি বলেন, “মারধর দেখে আমি দাঁড়িয়ে যায়। এরপরেই পেশার টানে ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করি। আমার ছবি তোলা দেখে দুষ্কৃতীরা কংগ্রেস নেতাকে ছেড়ে আমাকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। ক্যামেরা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে দুষ্কৃতীদের দাবি মেনে কিছু ছবি মুছতে বাধ্য করে। তারপর মুক্তি পাই।”
জেলা কংগ্রেস সভাপতি মিল্টন রশিদ বলেন, “বিষয়টি আমি মৌখিকভাবে মহকুমা পুলিশ আধিকারিককে জানিয়েছি। মহকুমা শাসককে লিখিতভাবে জনাব”।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধীমান মিত্র বলেন, “মিল্টনবাবু এসেছিলেন। উনি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। পরবর্তীকালে যেন কোন অশান্তি না হয় সেই আবেদন করেছেন। তবে লিখিতভাবে কোন অভিযোগ করেননি”।
তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব ভট্টাচার্য বলেন, “কোনো মারধর হয়নি”।

আরো পড়ুন