মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে ৪৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকরা

মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে ৪৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারকরা

নিজস্ব প্রতিবেদন : দিনকাল এখন আধুনিক। হাতে হাতে স্মার্টফোন, চলছে ডিজিটাল লেনদেন। তবে এসবের মাঝেই প্রতারণার ক্ষেত্রেও আধুনিকতার ছোঁয়া আনছেন প্রতারকরা। ছলে কৌশলে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বারবার এই সংক্রান্ত বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হলেও প্রতারকদের সেই ফাঁদে পড়তে দেখা যাচ্ছে বহু প্রতারিতকেই।

ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটল বীরভূমে। যেখানে এক প্রতারিত ব্যক্তির কাছে মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে ৪৩ লক্ষ টাকার বেশি হাতিয়ে নিল প্রতারকরা। এই বিপুলসংখ্যক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নজিরবিহীন। যদিও পুলিশি তৎপরতায় এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে ১১ জন।

এমন নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের বোলপুর থানার অন্তর্গত মুলুক গ্রামে। ওই গ্রামের বাসিন্দা আমির হাজমা এমন ঘটনার সম্মুখীন। তার থেকে যেটুকু জানা গিয়েছে তাতে তাকেই মোবাইল বা ইন্টারনেট টাওয়ার বসানোর জন্য ফোন করা হয়। প্রতারকদের সেই ফাঁদে পা দিয়ে একের পর এক টাকা লেনদেন করেন তিনি। দেখতে দেখতে সেই টাকার পরিমাণ পৌঁছে যাই ৪৩ লক্ষ টাকার বেশি।

আমির হাজমা জানিয়েছেন, দিল্লির অফিস থেকে ফোন করা হয় এবং বলা হয় তাদের হেড অফিস মুম্বইয়ে। মোবাইল টাওয়ার বসাতে চান তারা। এর পরেই শুরু হয় আর্থিক লেনদেন। ১১ মে ২০২১ সালে শুরু হয় প্রথম লেনদেন এবং শেষ লেনদেন হয় ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১। এরপর শেষমেষ তিনি পরিস্থিতি অগতিক বুঝে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে বোলপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, অতি তৎপরতার সঙ্গে বোলপুর থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে এবং শেষমেষ সিআইডি এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ১১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। ধৃতরা ফুলবাগান থানার অন্তর্গত একটি জায়গায় অফিস খুলে এমন প্রতারণার কর্মকাণ্ড চালাতেন। ধৃতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ এবং বাকি দুজন মহিলা। এদের শনিবার বোলপুর মহকুমা আদালত পেশ করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমির বাবু কাতর আবেদন করেছেন, “পুলিশ, সিআইডি এবং আদালতের কাছে আমার বিনীত আবেদন যাতে আমি এই টাকা ফেরত পাই। কারণ এই টাকা আমার জীবনে খুব কষ্ট করে রোজকার করা টাকা।” এখন দেখার বিষয় এই টাকা পুলিশ উদ্ধার করতে কতটা সক্ষম হয়।

এই প্রসঙ্গে প্রত্যেকের কাছে একটাই অনুরোধ, টাওয়ার বসানোর নামে হোক অথবা অন্য কোন ক্ষেত্রে কখনোই এমন ফাঁদে যেন কেউ না পড়েন। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আপনি যখন জমি অথবা অন্যকিছু দিচ্ছেন তখন আপনার থেকে টাকা চাওয়া মানেই বুঝে নিতে হবে ‘এরা প্রতারক’। একটু যদি সজাগ এবং সতর্ক থাকেন তাহলে এমন মারাত্মক প্রতারণার ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।

আরো পড়ুন