‘রাজমিস্ত্রি বলে কি মন নেই’, হাওড়ার দুই গৃহবধূকে বিয়ে করার প্রস্তাব

‘রাজমিস্ত্রি বলে কি মন নেই’, হাওড়ার দুই গৃহবধূকে বিয়ে করার প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদন : গত ১৫ ডিসেম্বর হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দার কর্মকার পরিবারের দুই গৃহবধূ অনন্যা কর্মকার এবং রিয়া কর্মকার বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তারা মুর্শিদাবাদের দুই রাজমিস্ত্রি শুভজিৎ দাস এবং চন্দ্রশেখর মজুমদারের প্রেমে পড়ে এই পদক্ষেপ নেন। হাওড়া থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে মুম্বই যাওয়ার পর মুম্বই থেকে ফেরার সময় তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গ্রেফতার হওয়ার পর হাজতবাসে যেতে হয় ওই দুই রাজমিস্ত্রিকে। সম্প্রতি তারা জেল থেকে বেরিয়েছেন। জেল থেকে বেরিয়েই তারা জানিয়েছেন, “রাজমিস্ত্রি বলে আমরা কি মানুষ নই! আমাদের কি মন বলে কিছু নেই! আমরাও পারি ভালোবাসতে।” এর পাশাপাশি তারা এটাও জানিয়েছেন, দুই গৃহবধূ অনন্যা ও রিয়াকেই তাঁরা মন থেকে ভালোবাসেন, তাঁদের সঙ্গে সংসার করতে চান। তাঁদের বাড়ির লোকেরাও সম্মতি দিয়েছে।

তবে তাদের এবং তাদের পরিবারের লোকেদের সম্মতি থাকলেও এই বিয়েতে রয়েছে আইনি জটিলতা। কারণ ওই দুই গৃহবধূর বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বিয়ের আসরে বসতে পারবেন না কেউই। তবে এই দুই রাজমিস্ত্রি আইনি জটিলতা কাটিয়ে বালির ওই দুই গৃহবধূর সঙ্গেই সংসার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে বালির ওই দুই গৃহবধূ পালিয়ে যাওয়ার পর ওই দুই রাজমিস্ত্রির বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করা হয়। তারপর তাদের আসানসোল রেল স্টেশন থেকে আটক করা হয় এবং পরে ওই দুই রাজমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ওই দুই গৃহবধূ অনন্যা কর্মকার এবং রিয়া কর্মকারকে তাদের বাপের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ওই দুই রাজমিস্ত্রি জামিন পেয়েছেন।

১৫ ডিসেম্বর ওই দুই গৃহবধূ বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর পাঁচজন মিলে গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস ধরে মুম্বই চলে যান। এরপর ২০ ডিসেম্বর মুম্বই মেলে চেপে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ এদের ফোন ট্র্যাক করে সমস্ত বিষয় জানতে পারে এবং ফেরার সময় আসানসোল রেল স্টেশন থেকে তাদের প্রথমে আটক ও পরে গ্রেফতার করা হয়।

আরো পড়ুন