লকডাউনে খাবার বিতরণের কর্মসূচি রামপুরহাট পুলিশের

অমলেন্দু মন্ডল রামপুরহাট :-

রামপুরহাট শহরের আশ্রয়হীন দের লকডাউন চলাকালীন নিয়মিত খাবার তুলে দিতে মানবিক উদ্যোগ নিল রামপুরহাট থানা। অতীতে অর্থ্যাৎ গতবছর লকডাউন জারি ছিল ২ মাসেরও বেশি সময় ধরে। সেই সময় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে করুণ অবস্থা চোখে পড়েছিল রামপুরহাট স্টেশন সংলগ্ন এলাকার আশ্রয়হীন ভবঘুরে মানুষদের। কারণ তারা জীবন-যাপন ভিক্ষাবৃত্তি বা দান-ধ্যানে পাওয়াকে কেন্দ্র করেই। লকডাউন জারি হলেই যেহেতু মানুষজন বাইরে বেরোয় কম, তাছাড়াও বন্ধ থাকে পরিবহন পরিষেবা, ফলে এমদবস্থায় প্রায় অনাহারে দিন গুজরানের মত অবস্থা হয় এই আশ্রয়হীনদের।

গত বছরের সেই ভয়াবহ অবস্থা আজও সজাগ। তবে গত বছরে পুলিশ প্রশাসন সহ অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও সাংবাদিকরা রামপুরহাট স্টেশন চত্বরে কয়েশোমানুষের মুখে খাবার তুলে দিয়েছিল। সেবছর লকডাউন চলা পর্যন্ত প্রায় দীর্ঘ সময় ধরে এই কর্মসূচি চালিয়ে নিয়ে গেছিলেন তাদের নিজেদের উদ্যোগে।

এবারের লকডাউনে বীরভুম জেলা পুলিশের তরফে এমন মানবিক উদ্যোগ চলছে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায়, বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে। এদিন সেই উদ্যোগে সামিল হয়েছে রামপুরহাট থানা। এদিন থানার পক্ষ থেকে রামপুরহাট স্টেশনে থাকা ২০০ জন ভবঘুরেদের দুপুরের আহারের ব্যাবস্থা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সায়ন আহমেদ ও আই.সি. দেবাশিস ঘোষ সহ রামপুরহাট থানার পুলিশ।

এবিষয়ে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সায়ন আহমেদ জানান, আমারা প্রতিদিন দুপুরে স্টেশনে থাকা ২০০ জনকে খাবার দেব। যতদিন লকডাউন চলবে আমরা এটা চালিয়ে যাব। পাশাপাশি শহরের মানুষজনকেও প্রয়াসে সামিল হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভালো সাড়া মিলেছে বলেও জানান তিনি। তবে এই প্রয়াস লকডাউন ওঠা পর্যন্ত চালিয়ে নিয়ে যাতে পারবেন বলেও আশাবাদী তিনি।

আজ প্রথম দিনের খাবারের মেনুতে ছিল ভাত, ডাল, মিক্সভেজ, মাছের ঝোল এবং শেষ পাতে মিষ্টি। বীরভুম জেলা পুলিশের পাশাপাশি রামপুরহাট থানার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রামপুরহাটবাসী। অন্যদিকে পুলিশের এমন উদ্যোগে খুশি আশ্রয়হীন ভবঘুরে মানুষেরাও।

আরো পড়ুন