লাগাতার আদিবাসী নাবালিকার গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য

লাগাতার আদিবাসী নাবালিকার গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদন : ফের নাবালিকা গণধর্ষণের ঘটনা। এবার এমন ঘটনা ঘটলো বীরভূমের বোলপুর থানার অন্তর্গত সিয়ান মুলুক এলাকায়। এবারের ঘটনা অত্যন্ত নৃশংসজনক। একবার নয় একাধিকবার গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ওই আদিবাসী নাবালিকা।

জানা যাচ্ছে, সিয়ান মুলুকের ওই নাবালিকাকে প্রথম ধর্ষণ করার পর তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় বর্ধমানে। সেখান থেকে ফিরে এলে ফের গণধর্ষণের শিকার হন ওই নাবালিকা। ওই নাবালিকা এই মুহূর্তে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, গণধর্ষণের শিকার হওয়া ওই আদিবাসী নাবালিকার বাবা সিয়ান মুলুক গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য দীপ্তিমান ঘোষের কাছে লক্ষাধিক টাকা ধার নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা শোধ করতে না পারার কারণে নিজের মেয়েকে একপ্রকার তুলে দেন দীপ্তিমান ঘোষের হাতে। এরপরেই ৩১ মার্চ থেকে লাগাতার ধর্ষণের শিকার হন ওই নাবালিকা।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতার মাসতুতো দিদি বোলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে নির্যাতিতা ওই নাবালিকার বাবা-মা এবং ওই তৃণমূল সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই বোলপুর থানার পুলিশ সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার এবং বোলপুর মহকুমার এসডিপিও ঘটনাস্থলে যান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩৭৬ ডি (গণ ধর্ষণ), ৫০৬ (হুমকি), এসসি এণ্ড এসটিএক্স ও পস্কো আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েতের সদস্য দীপ্তিমান ঘোষকে গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগকারী অর্থাৎ ওই নাবালিকার মাসতুতো দিদি জানিয়েছেন, “বোনের শারীরিক অবস্থা এখন খুব খারাপ। সুস্থ হয়ে ওঠার পর ঘটনা আরও পরিস্কার হবে। আমরা চাই অভিযুক্তরা যেন শাস্তি পায়।”

আরো পড়ুন