---Advertisement---

পৌষমেলার স্টল বুকিংএ স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ

By Pritam Das

Updated on:

---Advertisement---

পৌষমেলার স্টল বুকিংএ স্বচ্ছতা আনতে পদক্ষেপ

শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনের পূর্বপল্লীর মাঠে ঐতিহ্য বাহী ১৮২ তম পৌষমেলা শুরু ২৩ ডিসেম্বর থেকে। পৌষমেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ মোট ছয় দিনের মেলা। তবে পুরোমাত্রায় স্বচ্ছতা আনতে এবারের মেলায় সম্পূর্ণ অনলাইনেই হবে পুরো প্লট বুকিং। বীরভূম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক সেরে এমনটাই জানালেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। পৌষমেলায় প্লট বুকিং নিয়ে প্রতি বছরই ভুড়ি ভুড়ি দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে৷ তাই এবার প্লট বুকিংয়ের পর যারা প্লট বুক করেছেন, তারাই পেয়েছেন কিনা ২২ ডিসেম্বর সরজমিনে দেখবে কমিটি৷ ১৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলার স্টল বুকিং প্রক্রিয়া।

প্রতি বছর মেলায় প্লট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ভুড়ি ভুড়ি দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে৷ একজন একের বেশি প্লট বুক করে অন্যকে চড়া দরে বিক্রি করে, কেউ অন্যের প্লট দখল করে নেয়। এমনই অভিযোগ ওঠে প্রতিবছর মেলা নিয়ে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই এই দুর্নীতি বন্ধ করতে তৎপর হয়ে ওঠে বর্তমান উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ।
তাই এবার পৌষমেলায় দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও দূর্নীতি রুখতে বীরভূম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে কমিটি গঠন করল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এদিন, বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সভাকক্ষে মেলা সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হয়৷ বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে এই বৈঠকে ছিলেন কর্মসচিব বিকাশ মুখোপাধ্যায়, ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ সহ বিশ্বভারতীর আধিকারিকেরা। ছিলেন শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার ও সদস্য কালীকারঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।
রাজ্য সরকারের তরফে ছিলেন, রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ, বোলপুর মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না, বোলপুর পৌরসভার চেয়ারপার্সন পর্ণা ঘোষ সহ বিদ্যুৎ বিভাগের, দমকল বিভাগের, শ্রীনিকেতন-শান্তিনিকেতন উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিকেরা। বীরভূম জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বোলপুর) রাণা মুখোপাধ্যায়, বোলপুরে এসডিপিও রিকি আগরওয়াল সহ বোলপুর থানার আইসি, শান্তিনিকেতন থানার ওসি প্রমুখ।
ভার্চুয়ালি বৈঠকে ছিলেন বীরভূম জেলা শাসক ধবল জৈন ও জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং।
বৈঠকে পৌষমেলা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যেমন, পৌষমেলার সম্পূর্ণ অনলাইনে প্লট বুকিং হবে৷ ২০২৪ সালে যারা মেলায় স্টল করেছিলেন তারা অগ্রাধিকার পাবেন।১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর তারা প্লট বুক করতে পারবেন। এছাড়া নতুন ও যে কেউ প্লট বুকিং এর ক্ষেত্রে পৃথক দিন ধার্য হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর সবার জন্য অনলাইন বুকিং সাইট খুলে দেওয়া হবে৷ প্লট বুকিংয়ের ফীজ গত বারের মত একই থাকছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে পৌষমেলায় দূষণ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে একটি মামলা করেছিলেন পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্ত। সেই মামলার রায়ে একাধিক দূষণ বিধি বেঁধে দিয়েছে পরিবেশ আদালত৷ তাই ২৮ ডিসেম্বরে পর কোন ভাবে মেলা রাখা যাবে না৷ পাশাপাশি প্রশাসনের সহযোগিতায় ২২ ডিসেম্বর থেকে প্লট বুকিংয়ের দূর্নীতি রুখতে তৈরি কমিটি মাঠে প্রদক্ষিণ করবে৷ পরিবেশ দূষণ রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বলে সূত্রের খবর।

বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “কোন রকম কালোবাজারি চলবে না৷ একদম।অনলাইনে বুকিং হবে৷ ২০২৪ সালে যারা মেলায় স্টল করেছিলেন তারা ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর অনলাইনে প্লট বুক করতে পারবেন৷ ১৭ ডিসেম্বর থেকে বাকিরা সকলেই অনলাইনে প্লট বুক করতে পারবেন৷ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতেও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

রাজ্যের কারামন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, “প্রতি বছরের মত বীরভূম জেলা প্রশাসন সুষ্ঠমত পৌষমেলা করতে সব রকম সহযোগিতা করবে৷ বিশ্বভারতী যা যা সহযোগিতা চেয়েছে সব পাবে৷ ৬ দিনের মেলা হবে, অনলাইনে প্লট বুক হবে এটা ঠিক হয়েছে।”

বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ বলেন, “এই মেলা আন্তর্জাতিক স্তরের মেলা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। জেলা পরিষদের তরফে মেলার জন্য যাবতীয় সহযোগিতা করবো আমরা৷ বিশ্বভারতীর প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। তাই আমরা মেলার আয়োজনে বাড়তি নজর দিচ্ছি।”

অতিরিক্ত বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার (বোলপুর) রাণা মুখোপাধ্যায় বলেন, “মেলায় সর্বক্ষণের পুলিশ ক্যাম্প থাকবে৷ নিরাপত্তার জন্য সাদা পোষাকের পুলিশ, মহিলা পুলিশ, সার্ভিল্যান্স টিম, সিসি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার প্রভৃতি থাকবে৷ ট্রাফিক সিস্টেমেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”

---Advertisement---

Leave a Comment