শেখ ওলি মহম্মদ:-
দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। ঠিক এই সময়ই বীরভূমের দুবরাজপুরে বড়সড় ধস নামল বিজেপি শিবিরে। বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালসত ১৬০ নম্বর সংসদের বিজেপি সদস্যা যমুনা বাগদী আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করলেন। তাঁর সঙ্গে এদিন বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ পার্থ বাগদি সহ প্রায় ৩০টি পরিবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। এদিন তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন দুবরাজপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার রফিউল হোসেন খান ও তরুণ গড়াই। সাথে ছিলেন দুবরাজপুর ব্লক তৃণমূল কোর কমিটির সদস্য স্বপন মণ্ডল, জেলা পরিষদের সদস্য মুনমুন ঘোষ সহ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। উল্লেখ্য, যমুনা বাগদী বালিজুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের হালসত গ্রাম থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হতেই এই দলবদল বলে জানান তিনি।
দুবরাজপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কনভেনার রফিউল হোসেন খান জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্প এবং রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হয়েই যমুনা বাগদী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যোগদানকারী সদস্যা জানিয়েছেন, এলাকার মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতেই তিনি আজ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রফিউল হোসেন খান আরও বলেন, বিজেপি একটি সাম্প্রদায়িক দল, যারা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করে। মানুষ আজ তা বুঝতে পেরেছে। বালিজুড়ি পঞ্চায়েতে বিজেপির ৬ জন সদস্য ছিল, তার মধ্যে আজ একজন আমাদের দলে এলেন। অর্থাৎ আমাদের ৯ জন সদস্য হলেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগেই দুবরাজপুরে বিজেপির কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
শক্তি কেন্দ্রের প্রমুখ পার্থ বাগদি জানান, তিনি ২০১১ সাল থেকে তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। কিন্তু কিছু মতানৈক্যের কারণে ২০১৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং দলের একনিষ্ঠ সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিজেপির স্থানীয় নেতাদের প্রতি তাঁর মনে ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। তাঁর অভিযোগ, দলের বিধায়ক অনুপ কুমার সাহা বা মণ্ডল সভাপতি—কেউই বিপদে-আপদে বা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকেন না। ভোটের সময় নেতাদের দেখা মিললেও, ভোট মিটে গেলে তাঁদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না।
বিজেপির এই “জনবিচ্ছিন্ন” রাজনীতির প্রতিবাদে এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি পুনরায় পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পার্থ বাগদি আরও দাবি করেন, হালসত গ্রামের আরও অনেক বিজেপি কর্মী খুব শীঘ্রই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।






